Newsbazar24.com / সবার জন্য

  • ************* ঐচ্ছিক ************* .- -দিলীপ তলয়ার

    14-Mar-18 02:36 pm


    ঐচ্ছিক -দিলীপ তলয়ার

     

    • আমি সব পারি। আমার কাছে কোনো ফিক্সড ইনকাম, শেষ বয়সের ভরসা এন্ড অল দ্যাট বোগাস থিংস...আই ডোন্ট বদার, ইউ নো ?
    • কিন্তু জীবন সুরক্ষিত হওয়াই কাম্য, তাই না অরিত্র ?
    • নট এট অল!ইন দ্যাট রেসপেক্ট। সোজাসাপ্টা হও না কেন। বাঁচো কিন্তু লড়াই করে। লড়াই করে এবং কৌশলে। হাত পা আছে, মাথা বুদ্ধি আছে, চোখ আছে আর বাজার আছে। বাজার থাকলে পণ্য আছে। সেল পারচেজ আছে। এনিথিং ইউ ক্যান সেল এন্ড বাই। 
    • দেন?
    • দেন ইউ অয়াচ অনলি বিদি, আই মিন বিদিশা, বিদিশা সিরকার!

     

    হ্যাঁ,সব পারে। অরিত্র সব পারে। ইনকামটা ওর কাছে একটা গেম। একটা  ফানি রেস। ঠিক ঠিক বয়সে ভালো একটা চাকরী পেতে হবে। ভালো একটা বাড়ি বানাতে হবে। রুটিন করে দিনযাপনের সব কটা স্টেপ নির্মাণ করতে হবে ও ফলো করতে হবে। ঘর গেরস্থালি কুটুম সাপ্তাহিক ছুটি কাটানো ট্যুর আর নিয়ম করে হাসি আর সেই হাসির ছবি জোর করে ক্যামেরা ভরানো। উফ হাঁপিয়ে ওঠা । এও কি আজকের দিনে বাস্তব ?

    অরিত্র যা পারে তা নিয়ে ওর মধ্যে কোনো দ্বিধা দ্বন্দ্ব নেই, পরিবর্তে আছে অফুরান প্রাণশক্তি আর উচ্ছল ঢেউ এর মতো জীবন্ত আর স্বপ্নময়...জীবন। জীবন-বিদ্যা ... 

    • দেন ?
    • দেন প্লিজ স্টে উইথ মি বিদিশা। স্টে এ্যাজ এ ফ্রেন্ড এন্ড বি সুপার ডুপার জুটি। উই স্যাল অভারকাম...!

    আট বছর। আট বছর শেষ করে নয় এ পা। অরিত্র-বিদিশা এখন বেশ আছে। বিনি চাকরির অরিত্র দুম করে বিদিশাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। ঠিক বিয়ের মত নয়... এক সঙ্গে থাকা। ঘর করা। টাফ জগতটার সঙ্গে বুল ফাইটে পুরো রিঙের মধ্যে ঢুকে পড়া। তো সেরকমই বিয়ের পর কিছুদিন আনন্দ করে কাটানোর পর এক জানুয়ারীর প্রথম দিনে রক্সি মোড়ের কাছে বড় একটা ঘর ভাড়া নিয়ে বাড়ি ছেড়ে আসে ওরা।

    • এত রাতে কোথায় যাও ?
    • রাতের গভীরতা মাপতে নেই
    • মানে ? রাত আড়াইটা বাজে। আজকাল এত রাতে কেউ বের হয়?
    • কাজ থাকলে বের হয়। রুগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে হয়। এমার্জেন্সি কাজগুলো কি শুধু দিনেই হয় ?
    • এখন আবার কী এমন কাজ অরি? এমার্জেন্সি ? কিসের ?
    • আছে আছে। দাস বাড়ির বড় বুড়ি ট্রেন ধরবে।
    • তো !
    • ওকে রেখে আসতে যাচ্ছি।
    • মনে নেই বড় বুড়ির বাবা আর কাকা তোমাকে কেমন ভাবে অপমান করেছিলো !
    • শোনো ওদের কাজ নেই। সক্ষমও কেউ নেই। ঐ মেয়েটা ছাড়া। দাসবাবু অসুস্থ । যখন ভালো ছিলো তখন আমাকে ঐ একটা ব্যাপারে দু’কথা শুনিয়েছে ঠিকই কিন্তু মেয়েটার রোজগারেই যে সংসারটা চলছে  আর বুড়ির মা একা। কি করবে? দিশেহারা পরিবার একটা । আসলেই অকেজো।
    • হুঁ 
    • বুড়ি সকালে বলেছিলো ... জেঠু তুমি যে বাড়িতে থাকো না, ওদের না একটা গাড়ি আছে ! তুমি বললে কি ড্রাইভার দিয়ে আমাকে স্টেশনে ছেড়ে আসবে ? ডাউন সামার এক্সপ্রেশ। রাত্রিবেলা? অন্য গাড়িতে টিকিট পাইনি তো... তাই। যা নেবে আমি দেবো জেঠু । আমাকে অফিসে যেতেই হবে।
    • রাত কিন্তু বেশিই।
    • তোমাকে ভাবতে হবে না।
    • আমি ভাবি না কিন্তু তোমার আর বুড়ির নিরাপত্তা নিয়ে ভাবনা যে এমনি এমনি চলে আসে। 
    • মেয়েটাকে তো যেতে হবে ! না কি ? 

    অরিত্র স্কুটার বের করে। মাঝরাতে পাড়াটা বিকট আওয়াজে কেঁপে ওঠে। মনের মধ্যে উথাল পাথাল ভয়-ঢেউ ভাঙতে থাকে বিদিশার। অরিত্র বরাবর অন্য রকমের। ওর কথায় - জগত কাঁপিয়ে দাপিয়ে বেড়াব। কথাটা কি বীরত্বের নয়? কিন্তু এ জগত যে বড়ই দিশেহারা করে রাখে সবাইকে। বীর-পুঙ্গব তারাই যারা মাথায় ছাতা পায়। বল পায়। আশীব্বাদ পায়। ভাগ পায়। অরিত্রর এসব কিচ্ছু নেই। শুধু অংক আর চোখ ভরা স্বপ্ন। 

     

    চাকরী নেই ব্যাবসা নেই স্থির আয়ও নেই কিন্তু সংসার চলছে। ভালোই আছে ওরা। সব পারে অরিত্র, সব। কোনো কাজে লজ্জা নেই, না নেই, আমতা আমতা করে না। স্পষ্ট দরদাম করে নেয়। কী পারে না আর কীই বা পারেনি, করেনি !

    এই তো সেদিন ডি বি এল খুলতেই ভোর থাকতে মানে রাত থাকতেই কোথায় যে বের হল সকাল আটটায় বার’শ টাকা আয় করে নিয়ে এলো। কি না কাগজ বিক্রী... ডিটেলে যখন শুনলো তখন ক্লীয়ার...

    • এই দুলু কোথায় যাচ্ছিস? 

    বছর আঠারোর এক যুবক। গরিব। ছেলেটার একটা হাত একটু ছোটো আর তাতে কোনো স্বাভাবিকতা নেই, হাতটা দুলে দুলে চলে। ঐ জন্য ওর নাম দুলু কিন্তু আসল নাম মুকুন্দ। মুকুন্দ বাতাসি। ওর বাবা নেই এখন থেকে তিন চৈত্র আগে একবার রাণীবাঁধের মেলায় শোলার পুতুল,চরকি–পাখি,তালপাতার সেপাই আর পাটের ফেঁসুয়া আঠা দিয়ে লাগানো কেশরের নকল ঘোড়া বিক্রী করতে করতে হার্ট ফেল করে মারা গেছে। ওর মা মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে। তো দুলুকে মোক্ষম সময়ে মোড়ের মাথায় পেয়ে অরিত্র ডাকে-

    • এই দুলু কোথায় যাস? কাজ করবি? মেলা টাকা হবে।
    • কী কাজ?
    • কোম্পানী খুলেছে?
    • তো
    • তো!
    • সব অফিসার বাবুরা আজই দেশের বাড়ি থেকে উড়ে উড়ে আসবে। ডিউটি শুরু। কাজ শুরু। তুইও পাখির মতো কাগজের ডানা ঝাপ্টে বারান্দা-ব্যাল্কনিতে উড়ে বেড়াবি আর গলা ফাটাবি। কগজ বিক্রী করবি, পয়সা হবে...

    দুলু রাজি হয়। মাথা নেড়ে সায় দেয়। 

    • এই নে সাইকেল।
    • ও দিয়া কি হবি?
    • কোম্পানীর মেন গেট দিয়ে ঢুকবি।
    • নতুন বিল্ডিং এর দোতলায় সব ঘরে ঘরে কাগজ দিবি আর নগদ নিবি, পারবি না?
    • পারুম গিয়া।
    • এখন পাঁচটা তেইশ। কাগজ হাতে আছে। এই নে বিস্কুট আর চায়ের

    পয়সা। দোড় দে।

    • এত?
    • চার’শ। চার রকম। সব কাগজের দাম তো জানিস?
    • সে তুই দুনিয়ার সব জানিস, আমি জানি। যা। তোর কামাই হবে আমারও... 

    দুলু ঠিক সকাল সাতটা চল্লিশেই সাইকেল আর কুড়িটা বিক্রী না হওয়া কাগজ ফেরত দিয়ে নিজের কমিশন বাবদ এক’শ কুড়ি টাকা বুক পকেটে গুঁজে দে ছুট। অরিত্র সাত সকালেই বিদিশার হাতে বারো’শ টাকা ধরিয়ে বাথরুমে যায়।   

         

    • ট্রেন এসে থেমে ছিল? তাড়াতাড়ি চলে এলে যেন!
    • হ্যাঁ, দশ মিনিট আগেই ট্রেন ঢুকেছে।
    • রাস্তায় সব ঠিক ছিল?
    • হ্যা রে বাবা। ভীতু...তুমি খুব ভীতু। নাও নতুন করে শোও।
    • বুড়ির কাছে ভাড়া নিয়েছ আবার নাকি ?
    • কিসের?
    • স্কুটারের তেলের?
    • নো। বুড়ির কাছে নেব কেন? সমাজসেবা করেছি।
    • ইস রে! কথাটা তিযর্কতায় বের হলেও বিদিশার গবির্ত ভাবটাও ছিল।  
    • তবে ফেরার সময় এক ব্যাগওয়ালা মাঝবয়সী প্যাসেঞ্জারকে তুলে ঢিবুর আইল্যান্ডে নামিয়েছি। জোর করে দশ টাকা দিয়েছে। 
    • সেই বলো।
    • তো!
    • আচ্ছা কাল তাহলে সক্কাল সক্কাল কাজ নেই তো কোনো?
    • না। একদম দুপুরে। দুপুরে বায়না আছে।
    • কিসের গো!
    • রসের।
    • হোয়াট?
    • রস্বাদনের।
    • কিছুই বুঝলাম না।
    • কাল বায়না। ইউ পি এস হয়েছে। এবার কম্পুটার টেবিল হবে। কালই হবে। সামনের সপ্তাহেই মনিটর অথবা সি পি ইউ।
    • কোন কাজের বায়না গো বল না...
    • সুবিদা ডেকেছেন। গ্যালারী খুঁজে দিতে হবে না কি যেন একটা ঐরকমের কাজ আর কি ফোনে সবটা শোনা হয়নি।
    • ও! 
    • রাত তিনটে চল্লিশ। তারা গোনো। ঘুম যাও। স্বপ্ন দ্যাখো। স্বপ্নে আকাশ আর বাড়িঘর...কী বোর্ড মাউস... দেন ক্লীকিং দ্য পাজলস, কঙ্কোয়ারিং দ্য ড্যাফোডিলস...

     

    আরিত্রকে সুবিমলদা ডেকে পাঠিয়েছিলেন। গ্যালারী গ্যালারী কথাটাও এক লাইন হয়েছিল। সবটা শোনা হয়নি। কাজটা নাকি একমাত্র অরিত্রই পারবে। সুবিমলদা বলছিলেন। তবে সুবিমলদার মত দিলদরিয়া মানুষ ডাকলে সত্যি সত্যি মনে বান ডেকে ওঠে। অনেক কিছু একসঙ্গে মনে পড়ে যায় ওর। ... এক সময় কি না সঙ্গ দিয়েছি আমরা ক’জন। যেমন ব্যক্তিত্ব তেমন গুণপনা, পান্ডিত্ব আর রসবোধ। তার ওপরে রাইটার প্রডিউসার...।

    • সুবিদা আমাকে ডেকেছিলেন যে... এসেছি... কথাটা গ্রীলের বারান্দায় পা রাখতে না রাখতেই একটু উঁচু স্বরে বলে ওঠে অরিত্র...
    • ইয়েস ম্যান... তোমাকেই চাই। ঘরে ঢোকা মাত্র অরিত্র দেখতে পায় সামনের সোফায় এবং চেয়ারে বেশ ক’জন বসে। চেনা নয়। বাইরের...কারা হতে পারে!
    • কাম ইন অরিত্র। এসো । বসো । আগে পরিচয় করিয়ে দিই বরং। তোমার সামনে তিনজন ম্যাডাম ইনি সুস্মিতা আইল পাশে রনীতা পূরবে, দিশা সিরকার, এই যে প্রফেসর রায় আর মি. ওয়েজির।  অরিত্র সবাইকে হাত জোড় করে নমস্কার করে, আমি অরিত্র সেনরায়। সামনেই থাকি। 
    • ওহ ফাইন! মাঝখান থেকে দিশা নামের ভদ্রমহিলাটি বলে উঠলেন। 
    • হ্যাঁ আপনারা সবাই গুণী ব্যাক্তি...সবাই আজ এভাবেই  পরিচিত হলাম তাহ’লে... কিন্তু আমাকে কেন ডাকলেন দাদা? সুবিদার দিকে মুখ রেখে অরিত্র জিজ্ঞাসা করে।
    • শোনো অরিত্র, ইনারা আমাদের শহরে একটা আর্টের কর্মশালা কাম একজিবিশন করতে চাইছেন। তিনদিন। তোমাকে গ্যালারি এন্ড এভরিথিং ম্যানেজ করে নামিয়ে দিতে হবে।
    • আপনি বলছেন তাহলে তো করতেই হবে।
    • হ্যাঁ তোমাকেই চাই।
    • ঠিক আছে দাদা।
    • বাজেট বলে যাও...
    • এখনই বলতে পারছি না দাদা, বিকেলে হবে সে সব। আমি একটু সময় নিলাম আর কি।
    • ও কে... সবার মুখেই হাসির ঝিলিক।

    অরিত্র গুছি মোড়ের সামনের ইনডোর টি টি হল বুক করে যাবতীয় আয়োজন করে। ভেবেছিল তিন-সাড়ে তিন হাজার হবে হয়তো। সুবিদা চাইলে কিছু মাইনাস হয়ে গেলেও ঐ তিন তো থাকবে! কিন্তু মিরাকেল হয়েছে। মি. ওয়েজার এবং দিশা ম্যাডামের বদান্যতায় পাঁচ হাজার হয়ে গেল। প্লাস ফেরার টিকিট ইত্যাদি থেকেও কিছু।

    • নাও পাঁচ। পুরো পাঁচ হাজার। টেবিল কিনতে যাব বিকেলে। 
    • ইরিব্বাস! বিদিশা নাচতে থাকে। ওটা কিনেও যত টাকা বাঁচবে তা দিয়ে?
    • কিছু আগের ফান্ড থেকে মিশিয়ে এ মাসের ভাড়াটা মিটিয়ে দাও। তারপর দেখছি।

    পারেও ভাই লোকটা! কি অদ্ভুত ক্ষমতা! উফ...

    • তারা গোনো। ঘুম যাও। স্বপ্ন দ্যাখো। স্বপ্নে আকাশ আর বাড়িঘর...কী বোর্ড মাউস... দেন ক্লীকিং দ্য পাজলস, কঙ্কোয়ারিং দ্য ড্যাফোডিলস...

    বিদিশা ঘুম ঘুম কিন্তু অরিত্র জেগে আছে। মাঝে মাঝে মাথার কাছে ডায়েরীটা খুলে আর কোথায় কী কাজ থাকতে পারে একবার করে অংক কষে নিয়ে মিলিয়ে নিচ্ছে আবার বালিশে এলিয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে কনুই এর ভরে আধশোয়া হয়ে হাতের কাছে রাখা ভিক্টর হুগোর বিখ্যাত একটা উপন্যাসের ভাঁজ করে রাখা পাতা মেলে নীরবে চোখ বুলিয়ে নিচ্ছে। আহঃ কি জীবন কি দুঃখময় আনন্দ যাপন! তারা গুনতে গুনতে ঘুম হয় নাকি ভোর হয়। পাখি ডাকে। বিদিশার মাথার মধ্যে ড্যাফোডিল জ্বলে আর নেভে। বেজে ওঠে। গান হয়। বাঁশী হয়। মেঘে মেঘে রোদ্দুর ওঠে!

     

    ১০.২০১৬

    Read : 131

Related Posts

বাজারে এন্ড্রোয়েড এবং উইন্ডোজ ফোন এর ছড়াছড়ি। জেনে নিন কি আছে এই দুই ফোনের পার্থক্য।
বাজারে তাল খুব সস্তা। জেনি নিন তালের নানা রেসিপি
মুক্তি পেলো "আমি রাজনীতি চাইনা"
মন চাইলেই বাড়িতে বানিয়ে খান বিরিয়ানী,জেনে নিন কিভাবে বানাবেন বিরিয়ানী
উইন্ডোজ ১০ এ আপগ্রেড করার পর থেকেই আপনাকে সমস্যাই পড়তে হচ্ছে ? জেনে নিন কিভাবে সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন
নিজেই বানিয়ে নিন টুথপেস্ট , জেনে নিন কিভাবে তৈরি করবেন টুথপেস্ট
ঘরোয়া পদ সব সময় ভাল লাগে না।তাই আজ রেস্তোরাঁর মতো চিকেন দো পেঁয়াজা হয়ে যাক
কয়েকটি ঘরোয়া উপায়ে মুখের দাগ সহজে দূর করুন
শেষ হলো ডাইনী প্রথার বিরুদ্ধে রাজকুমার দাসের পরিচালনায় "অন্তরালে"শর্ট ফিল্ম